Tuesday, 19 December 2017

নিশাচর

Sleeping Girl Pic এর ছবি ফলাফল

ঘুমিয়ে অর্ধেক আয়ু কাটায় যারা
ওরা ভালো চোখে দেখেনি কোনোদিন
শ্লেষ এর মোড়কে পদবি পোষ্ট করে
আমার ঠিকানায় "নিশাচর"।


প্রেয়সীও জানেনা সে খবর
সে তখন দূর কোথাও
এলো চুলে শিল্প গড়ে
তুলতুলে বালিশে।


আমার প্রহর গুলি তখন
অকাতরে ছড়িয়ে যাচ্ছে কালো
আমার উদ্দেশ্যহীন পায়চারি অজান্তেই পা মেলায়
জোনাকির প্রতিবাদী মিছিলে।

মাথার উপর বিশাল ভারাক্রান্ত বুক
যুগ যুগ ধরে ঠায় ধরে আছে সৃষ্টি
সেই বুকের স্পন্দনে মাথা ধরে আসে
সে যন্ত্রণা ওদের ভাগে নেই।
ওরা জানেনা আঁধার বিরোধী অভিযানে
কত জোনাকির আহুতি চলে
কত কত উল্কা ঝড়ে সেই বুক হতে।

নিশাচর তাই প্রত্যক্ষদর্শী হয়েই থাকি রোজ্
প্রেয়সী তুমি মধ্যরাতের কাব্য লিখ
অন্যদের মতোই প্রভাতে !

Friday, 15 December 2017

মুক্তি লগ্নে


কানা কানা পূর্ণ ভরন্ত সংসারে
এমনই এক পড়ন্ত বেলায়....
দেখিবে অস্তমিত সূর্য বহুতল ছাদে দাঁড়িয়ে
অথবা জানালার গ্রীল ফুঁড়ে নিঃসীমে ছুটবে দৃষ্টি ...


শহুরে প্রদূষণের কূহেলিকাময় আকাশে
স্পষ্ট ফুটে উঠবে এক পথ রেখা ,
অথবা এক ভুলে যাওয়া পরিচিত মুখ ...
কিছু উদ্দাম আবেগ
একগুচ্ছ হিজিবিজি সময়
অকারণ কথামালা
সব মিলে জমাট বাঁধা একখন্ড মেঘ ।

তুমি হবে মগ্ন সত্যি মিথ্যা যাচাইয়ে...
ধরা দেবে অনেক গোপন সত্য সেদিন ,
যা আজকের দিনে অধরা...
ফেলে আসা বর্জ্য নতুন মোড়কে
জানান দেবে তার প্রয়োজনীয়তা।
আশ্চর্য হয়ে দেখবে চেয়ে
মৃতের অভিসার...

কিছু জিনিস যে সত্যিই অমর
অবাধ বিচরণ এপার ওপার
হয়তো ছুটে আসবে অজস্র প্রশ্ন বাণ
বাতাসের গায়ে তীব্র দহন
তুমি ঠায় দাঁড়িয়ে হতবাক
চারপাশে প্রশ্নচিহ্নের আবর্ত।

সেই গোধূলির সূর্যের সাথে ঘুচে যাবে কিছু
স্বরচিত ভ্রম ,
পূর্ণতার মাঝের ফাঁকটুকু নিশ্চয় পড়বে ধরা
আত্ম গ্লানিতে চোখ ঝড়াবে মুক্তোর ঝড়
একটি অতৃপ্ত আত্মার সেই মুক্তি ক্ষণে
একমুঠো মুক্তো উপহার।

সাক্ষী থাকবে একা তুমি আর তোমার গ্লানির পাহাড় ॥





Sunday, 19 November 2017

বাঁচতে হয় বলেই

Click Here

কেমন আছি?
অনেকদিন পর হাসালে বন্ধু
ছোট্ট একটি প্রশ্নে----
অন্য কেউ হলে হয়ত বলতাম- “ভাল”,
নিজেকেই বা ফাঁকি দেই কি করে
আছি
বেঁচে আছি ।।


যেমনটা বেঁচে থাকে
শুকিয়ে যাওয়া নদী- পাতা ঝড়া গাছ
একবুক হতাশা আর লাঞ্ছনা বয়ে
রুক্ষ ইতিহাস রূপে ।
যেমনটা বেঁচে থাকে ধ্বংসস্তুপ
দূর্গ-অথবা বটবৃক্ষ
একদার অনেক হট্টরোল কলরবের
নীরব সাক্ষীরূপে
শুধু স্মৃতি বয়ে বয়ে ।।

সময়ের ভারী বোঝাতলে কুঁজো
অশীতিপর বৃদ্ধসম নুয়ে নুয়ে চলা-একটা জ়ীবন
যেমনটা হয়- দাগ পড়ে যাওয়া ফিল্ম
তেমনই,
তবে যথেষ্ট সজীব
সভ্যতার সাথে রোজ পাল্লা দিই
এই সমাজের সু-সভ্য নাগরিক হয়েই বাঁচি ।

শুধু কখনও কখনও মায়া কেটে যায়
সত্যকে আর ফাঁকি দেওয়া যায়না তখন,
কেউ না জানলেও,আমিতো জানি
নিছক বাঁচতে হয় বলেই যে বেঁচে আছি ।।






Your Name :

Your Email: (required)

Your Message: (required)


Saturday, 18 November 2017

নিয়তি
















Click Here 

তোমার উপেক্ষা গুচ্ছ
একদা আমার সস্নেহ প্রশ্রয়ে
তিলে তিলে সাগর সমা
আজ তুলেছে সুনামী

প্রেম নামক দূরন্ত ঘূর্ণিতে
চরাচর অন্ধ হয়ে যায়
দিকভ্রষ্ট কত জাহাজ; তক্ত-তাজ
কোন ছার আমি !!

তবু সে ঝড় ছুটতেই থাকে
দিকবিদিক আপন অপরিমাপ্য ছন্দে
হাওয়াতে ভাসা যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক না-
পরম আশ্রয় পদতলের একমুঠো জমি।


Friday, 17 November 2017

বরফ-আখ্যান




বরফ-আখ্যান

আজন্ম স্থবির হয়েই ছিলো
সুউচ্চ হিমালয়ে, কোনো এক প্রান্তে,
নিজের প্রত্যেকটা পরমাণুর শক্ত বাঁধনে,
স্থিতপ্রজ্ঞ বরফ।

জল হওয়ার সাধ ছিলোনা তার
ইচ্ছে ছিলোনা কলকল ছলছল অবাধ গতির,
প্রকৃতির অমোঘ বিধানে একদিন কেউ-
দূর্ভেদ্য শিখরে পৌঁছে হাতের তালুতে তুলে নিল।

সে উত্তাপে আলগা হয়ে এলো বাঁধন
মৌল পাল্টাল ধর্ম, আজ সে উদ্দাম নদী।

সেই হাতের তালুটি আজও ছুঁয়ে যায় নিয়মিত
কিন্তু বিমর্ষতায় হাতটি আজ কালো,
এই জলে সে আজো বরফটাকেই খোঁজে
যদিও বরফকে জল সে-ই বানালো !


জলের চোখে জল আসে
ভরে ওঠে নদীর বুক,
পণ করে সে- বাষ্পীভূত হয়ে নামবে পুণঃ গিরিশৃঙ্গে
আসুক,এবারের গ্রীষ্মকালটা আসুক।।